ববির বঙ্গবন্ধু হলের ক্যান্টিনে লাগামহীন খাবারের দাম - বরিশালের খবর-Barishaler Khobor

বাংলাদেশ, ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

ববির বঙ্গবন্ধু হলের ক্যান্টিনে লাগামহীন খাবারের দাম - বরিশালের খবর-Barishaler Khobor

বাংলাদেশ সঙ্কটে পড়লে আ. লীগ সরকার মানুষের পাশে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী বরিশালে ফ্যামিলি কার্ড বিতরন উজিরপুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে ২লক্ষাধিক টাকার মৎস্য নিধন দেশের ১১ অঞ্চলে ৬০ কি.মি বেগে ঝড়ের আভাস: আবহাওয়া অফিস মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হচ্ছে, না পরলে শাস্তি চলেছ নিষেধাজ্ঞা : তারপরও পোর্টরোড মোকামে ট্রাকে ট্রাকে আসছে ইলিশ মসজিদে শিশু-বয়স্কদের যাওয়া নিষেধ: ধর্ম মন্ত্রণালয় বরিশাল ক্যাডেট কলেজে নব নির্মিত ক্যাডেট হাউসের উদ্বোধন করলেন সেনা প্রধান ঢাকা-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ের প্রতি কিলোমিটারে টোল ১০ টাকা: সেতু মন্ত্রণালয় দেশে ৪ বিভাগে ভারী বর্ষণের আভাস : আবহাওয়া অধিদ্প্তর


ববির বঙ্গবন্ধু হলের ক্যান্টিনে লাগামহীন খাবারের দাম

প্রকাশ: ২১ জুন, ২০২২ ৯:৫৮ : অপরাহ্ণ

ইমরুল কায়েস : সম্প্রতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বঙ্গবন্ধু হলের ক্যান্টিনে খাবারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। খাবারের মান কমে যাওয়ায় পুষ্টিহীনতায় ভোগার কথাও জানান অনেকে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মহামারীর পর উপাচার্য ও প্রক্টর বার বার হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান‌ ও দাম পরিদর্শন করলেও কোনো উন্নতি দেখা যায়নি হলের খাবারে। বরং করোনার আগের অবস্থার চেয়ে নিম্নমুখী হয়েছে ক্যান্টিনগুলোর খাবারের মান। যে মাছ শেরে বাংলা হলে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেটা বঙ্গবন্ধু হলে ৬০ টাকা। শুধু যে দাম বেড়েছে, তা-ই নয় একইসাথে খাবারের মান‌ও কমে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন বঙ্গবন্ধু হল ঘুরে দেখা যায় করোনার আগে মুরগির মাংস ৩৬ টাকায় পাওয়া যেত যার দাম এখন ৪০-৪৫ টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন রকমের মাছ গড়ে সর্বোচ্চ ৩৫-৪০ টাকা দাম ধরা হতো যেগুলো এখন ৫০-৬০ টাকা। মাছ-মাংস ছাড়াও সব ধরনের খাবারেই তুলনামূলক দাম বেশি রাখতে দেখা গেছে। শুধু দাম বৃদ্ধিই নয়, প্রশ্ন উঠেছে খাবারের মান নিয়েও। ৩৬ টাকার প্যাকেজ থাকলেও সেটা পর্যাপ্ত নেই। যেটা ৫০ জন শিক্ষার্থীর বেশি খেতে পারবে না। যেখানে একটা হলে শিক্ষার্থী থাকে ৫০০ জন।

মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো: ইউসুফ শিবলী সাদিক বলেন, এ পর্যন্ত ৩দিন ক্ষুধা পেটে এসে ঘুরে গেছি, দাম দেখেই পেট ভরে গেছে।

মনে হচ্ছে আমি একাই গরীব, অন্য কেউ প্রতিবাদ করে না। আযানের আগে গিয়েও কোনো ৫০ টাকার নিচে খাবার চোখে পরে না, শেষ হয়ে যায়, নাকি সিন্ডিকেট। ইচ্ছে করেই কম রান্না করে, নাকি করেই না? যেখানে স্টুডেন্টরা খাবে, সেখানে তারা কিভাবে ৭৫, ৮০, ৯০ টাকা রাখে? তাহলে হল আর বাইরের পার্থক্য কোথায়!

কিছু বলতে গেলেই, এক অজুহাত, সব কিছুর দাম বেশি। অল্প বাড়িয়ে মানে ভালো দিলেও মানা যেতো। ৫৫-৬০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে শেরে বাংলা হল একই সাইজের মাছ ৪০ টাকায় দিচ্ছে। ৩৬ টাকা প্যাকেজ তো এখন জাদুঘরে চলে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে তো আমার মত সাধারণ স্টুডেন্টকে না খেয়ে থাকতে হবে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন সবাই অন্তত পেট ভরে খেতে পারে।

পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আওলাদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু হলের ক্যান্টিন ইজারাদাররা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির নামকে উদ্দেশ্য করে স্টুডেন্টদের কাছ থেকে যে পণ্যের দাম অতিরিক্ত মূল্যে নিচ্ছে এর মাধ্যমে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের টিকে থাকা একেবারেই অসম্ভব। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও উপাচার্যের মাধ্যমে ৩৬ টাকার প্যাকেজ নির্ধারিত করা হলেও সেটি তারা বাদ দিয়ে দিছে। কতৃপক্ষের বা কোনো নোটিশ ছাড়াই তারা এখন প্রত্যেকটি পণ্যের দাম রাখছে ৫৫ টাকা ৬০ টাকা। যেটা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এইভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে একটা সময় দেখা যাবে, গুটি কয়েক শিক্ষার্থী ছাড়া অন্যদের না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। হলের প্রভোস্টদের দায়িত্ব এসব বিষয়ে তদারকি করা, কিন্তু তারা কর্ণপাতই করছে না। এখন আমরা পূর্বের দাম ফিরে পেতে চাই।

বঙ্গবন্ধু হলের ডাইনিং পরচালক সাকিব বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির কারনে আমরা খাবারের দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছি৷ তাছাড়া স্যারদের নির্দেশে ৩৬টাকা প্যাকেজের ৫০টি (৫০ জনের) খাবার সরবরাহ করি।

এবিষয়ে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট মো. আরিফ হোসেন বলেন, এটা সঠিক নয়। দুইটা প্যাকেজ আছে একটা কম দামের, আরেকটা বেশি দামের। যারা বাড়তি খেতে চাই, তারা বাড়তি টাকা দিয়ে খাবে। দাম কমানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো ক্যান্টিন চালায় না।

সকল নিউজ